লিখিত আবেদনে আবেদনকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে একজন ‘ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁকে দ্রুত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজলের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজলের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করেন ফিরোজ সভাপতি জাকের মার্কেট
এক নজরে মামলার মূল তথ্য:
#অভিযোগকারী: মো. ফিরোজপুর রহমান ফিরোজ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জাকের সুপার মার্কেট।
#অভিযুক্ত: অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
#ঘুষের চুক্তির পরিমাণ: ৫০ কোটি টাকা (দাবি অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা পরিশোধিত)।
#বিষয়বস্তু: ফুলবাড়িয়া জাকের সুপার মার্কেটের দোকান মালিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩টি রিভিউ পিটিশন।
#অভিযোগের মাধ্যম: আইন মন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের চুক্তির এক গুরুতরঅভিযোগ তুলে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। রাজধানীর ফুলবাড়িয়া জাকের সুপার মার্কেটের দোকানমালিকদের মামলার রায় প্রভাবিত করা এবং শুনানি বিলম্বিত করার বিনিময়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকালেনদেনের চুক্তি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ৭ মে (চিঠির তারিখ অনুযায়ী) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবর এই লিখিত
আবেদন করেন জাকের সুপার মার্কেটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজপুর রহমান ফিরোজ।আবেদনের অনুলিপি প্রধান বিচারপতিকেও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিস্তারিত:
আবেদনে দাবি করা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজল পদ পাওয়ার জন্য ১৭ কোটি টাকা খরচ করেছেনবলে উল্লেখ করেন এবং সেই অর্থ উশুলের জন্য মার্কেটের দোকান মালিকদের প্রতিকূলে গিয়ে দুর্নীতিবাজ খ্যাতকে এম সোহেলের সাথে ৫০ কোটি টাকার মৌখিক চুক্তি করেন। এই চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি ‘সিনিয়রকাউন্সিলর’ হিসেবে সার্টিফাইড হওয়ার নামে ১০ লাখ টাকা বায়না হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
অভিযোগকারী ফিরোজপুর রহমান উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির সিরিয়াল
ম্যানিপুলেট করতে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। চিঠিতে বলা হয়, মার্কেটের ৫৪৩ জনদোকান মালিকের ভাগ্য নিয়ে তিনি ছিনিমিনি খেলছেন। এমনকি চুক্তির বাকি ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা আগামী১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ না করলে আবেদনকারীকে ‘পালিত মাস্তান’ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছেবলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
১. শুনানি প্রভাবিত করা: নির্দিষ্ট কিছু রিভিউ পিটিশন (৩৫১/২০২৬, ৩৫২/২০২৬, ৩৫৩/২০২৬) ঝুলিয়ে রাখতে বামামলার সিরিয়াল পেছনে ফেলতে আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ।
২. অনৈতিক সুবিধা: জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের নামে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ।
৩. হুমকি ও চাপ: বাকি টাকা আদায়ের জন্য আবেদনকারীর ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপের অভিযোগ।
লিখিত আবেদনে আবেদনকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে একজন ‘ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেতাঁকে দ্রুত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের
অনুরোধ জানিয়েছেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আবেদনটি
পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এখনই কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে
যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয় : @daily apnarkhabor news
আপনার মতামত জানান দৈনিক আপনার খবর