ফুটবল সমর্থকদের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল টিম ও লিও মেসি জাদুঘর
মেসির ফুটবল দল আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে
লিও মেসির ফুটবল দল আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে
প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৩ : ৫১
বার্তা সম্পাদক -
সারা বিশ্বকে বিস্ময় করে শেষ ৭ মিনিটে ম্যাজিক্যাল খেলা দেখিয়ে দ্বিতীয় বার ফাইনালে আর্জেন্টিনা।
একসময় মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়েওছিল তারা। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষ হাসিটা হাসল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ ১০মিনিটে লিওনেল মেসির অসাধারণ দুই অ্যাসিস্টে ম্যাচ ঘুরিয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারেরমতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। আগামী রবিবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেতাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
প্রায় ৭০ হাজার দর্শকে ঠাসা যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরশারীরিক লড়াই। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক বৈরিতার প্রতিফলন দেখা যায় মাঠের প্রতিটি মুহূর্তে।প্রথমার্ধে দুই দল মিলিয়ে ১৯টি ফাউল করলেও গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেনি। ম্যাচের শুরুতেই উত্তেজনাবাড়তে থাকায় রেফারি ইসমাইল এলফাথ কয়েক মিনিট খেলা থামিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের সতর্ক করেন।
৩৮তম মিনিটে লিওনেল মেসিকে কঠোর ট্যাকল করে ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন হলুদ কার্ড দেখেন। চারমিনিট পর ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ থামাতে ফাউল করে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজও হলুদ কার্ডপান। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের গতি। ৫৫তম মিনিটে ডেকলান রাইসের দ্রুত আক্রমণ থেকে মর্গান রজার্স বলবাড়িয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডনের কাছে। নিখুঁত শটে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গর্ডন। এরপর ইংল্যান্ড রক্ষণ আরও শক্ত করে ফেলে এবং অনেকেরকাছেই মনে হচ্ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারাই আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফিরছে।
কিন্তু আর্জেন্টিনা হাল ছাড়েনি। ৬৪তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পরিবর্তে মাঠে নামেন নিকো গনসালেস।এরপর একে একে গনসালো মনতিয়েল, নিকোলাস ওতামেন্দি ও জুলিয়ানো সিমেওনেকে নামিয়ে কৌশলবদলান আর্জেন্টিনার কোচ। ৮১তম মিনিটে রক্ষণভাগের নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পরিবর্তে মাঠে নামেনলাউতারো মার্তিনেজ। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও অ্যান্থনি গর্ডন, ড্যান বার্ন ও ডেকলান রাইসকে তুলে নতুন খেলোয়াড়নামায়।
ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে শুরু হয় মেসির জাদু। ডান দিক দিয়ে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে গিয়ে এনজো ফার্নান্দেজকেনিখুঁত পাস দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এনজোর শক্তিশালী শট জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জড়িয়ে যায়জালে। ১-১ সমতায় ফিরতেই ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে আসে আর্জেন্টিনার হাতে।
এরপর যোগ করা সময়ে আবারও জ্বলে ওঠেন মেসি। তার দারুণ এক পাস থেকে লাউতারো মার্তিনেজ জয়সূচকগোল করেন। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংলিশ সমর্থকদের গ্যালারি, আর উল্লাসে ফেটে পড়েন হাজারোআর্জেন্টাইন সমর্থক।
দুটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রভাব বিস্তারকারী খেলোয়াড় ছিলেন লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপেগোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টেও তিনি অন্যতম সেরা। ৮ গোল নিয়ে তিনি এখনও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষসারিতে রয়েছেন, আর অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে গোল্ডেন বলেরও অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিতহচ্ছেন।
শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া যেন এবার আর্জেন্টিনার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত ৭৫ মিনিটেরপর আর্জেন্টিনা মোট ১২টি গোল করেছে, যা চলতি বিশ্বকাপে যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। চাপের মুহূর্তে ধৈর্যধরে খেলে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার ক্ষমতাই এবার তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপেরফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। ফলে রবিবার ফুটবল বিশ্ব দেখবে আরেকটি মহারণ—একদিকে বর্তমানবিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ষোল বছর পর ফাইনালে ফেরাস্পেন।Soccer
এখন সবার চোখ রবিবারের ফাইনালে। লিওনেল মেসি কি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনেদিতে পারবেন, নাকি দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বসেরা হবে স্পেন—এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ফুটবলেরসবচেয়ে বড় মঞ্চে।
বিষয় : @apnarkhabor.news
আপনার মতামত জানান দৈনিক আপনার খবর