চিংনুমং মারমা, রোয়াংছড়ি বান্দরবান। ০৭-০৫-২৬
পাহাড়ি ঢলে বিধ্বস্ত কচ্ছপতলী-নোয়াপতং সংযোগ সড়ক: জনদুর্ভোগ চরমে, দ্রুত সংস্কারের দাবি
রোয়াংছড়ি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হিসেবে পরিচিত কচ্ছপতলী ও ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অতিসম্প্রতি প্রলয়ঙ্করী পাহাড়ি ঢলে ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখস্থ সড়কের একটি বড় অংশ ধসে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত।
বর্তমান চিত্র ও ঝুঁকি সরেজমিনে দেখা যায়, হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মূল সড়কটির উল্লেখযোগ্য অংশ ধসে পার্শ্ববর্তী খাদে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে সড়কটি বর্তমানে এতটাই সরু হয়ে পড়েছে যে, যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্যও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সড়কটি ধসে যাওয়ায় হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত চরম সংকটের মুখে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করছেন।
এই সড়কটি ব্যবহার করে নিয়মিত যাতায়াত করেন থলিপাড়া, খংক্ষ্যং পাড়া, মহিলা কারবারি পাড়া ও থুইসা পাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত মানুষ। বর্তমানে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আনা-নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই চরম শঙ্কা আসন্ন বর্ষা মৌসুম নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষার ভারী বর্ষণ শুরু হলে পাহাড়ের মাটির ক্ষয় আরও ত্বরান্বিত হবে এবং অবশিষ্ট সড়কটুকু সম্পূর্ণ ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় সড়কটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করলে যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।
প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর আকুতি স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন এই পথেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছায়। অথচ সড়কটির এমন জীর্ণ দশা দীর্ঘস্থায়ী হলেও দৃশ্যমান কোনো সংস্কার উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন— আসন্ন বর্ষা মৌসুমের ভয়াবহতা বিবেচনা করে এবং জনস্বার্থে অবিলম্বে এই ভাঙনকবলিত অংশটি স্থায়ীভাবে ও টেকসইভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অন্যথায় এই অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তি ও বিচ্ছিন্নতার শিকার হবে বলে জানিয়েছে।
বিষয় : @daily apnarkhabor news
আপনার মতামত জানান দৈনিক আপনার খবর