রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন বর্জ্য অপসারন কার্যক্রম অবহেলার দায়ে প্রধানমন্ত্রী দুই কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেন
কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে দায়িত্বে ও পরিচ্ছন্নতায় অবহেলার কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।শুক্রবার (২৯ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু কোরবানি পরবর্তী দুই সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণের গাফিলতির দায়ে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী কাউকে না জানিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা (যেমন: হাতিরপুল, ফার্মগেট) ঘুরে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।বরখাস্তকৃত আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা হলেন– ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা - মো. সাদেকুর রহমান (উপ সচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা -কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে (উপ সচিব) তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে নগরীর বিভিন্ন রুট ঘুরে দেখেন।প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে দেখতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং গাড়ি চালিয়ে পরিদর্শনে বের হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, তার গাড়িটি গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করে গুলশান-১, হাতিরঝিল, রামপুরা রোড এবং মালিবাগের আবুল হোটেল হয়ে তালতলা মার্কেট ও বাসাবো সড়ক পথ দিয়ে অগ্রসর হয়। এরপর তিনি কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী মোড়, ধোলাইখাল, শহীদ ফারুক সড়ক ও দয়াগঞ্জ সড়ক হয়ে নারিন্দা ও রায়সাহেব বাজার মোড়ে পৌঁছান।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িটি জজ কোর্ট সড়ক, নবাবপুর, বংশাল রোড, গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফেন্ট রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও নিউমার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সেখান থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজ, সীমান্ত স্কয়ার, জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এবং মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে মহাখালী সড়ক পর্যন্ত ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।