প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ আ. লীগ মাইকে ঘোষনা দিয়ে ছাত্রদলের উপর হামলা ৬ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী আহত
মাসুদের রহমান , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক ||
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় কালাদরাপ ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডে নিষিদ্ধ আ. লীগ মাইকে ঘোষনা দিয়ে ছাত্রদলের উপর হামলা ৬ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগসহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেলের নেতৃত্বে একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে অবস্থানকালে খবর পান, কালাদরাপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে একটি মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে তারা কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় মিছিলের বিষয় জিজ্ঞেস করলে সেলিম চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ায় যে তাকে মারধর করতেছে ছাত্রদল। তাৎক্ষণিক সেলিম চেয়ারম্যানের অনুসারী নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ এর নেতৃবৃন্দ মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়।
এ ঘটনায় শ্রমিক দল নেতা হৃদয়সহ অন্তত ছয়জন আহত হন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতা-কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয় জানতে চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য যুক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলা, মোটরসাইকেল ও একটি অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা কাজ করছেন।নিজস্ব সাংবাদিক
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক আপনার খবর