প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মাসুদের রহমান , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক ||
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।স্থানীয় সময় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এসব সহিংসতায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত চারজনের মধ্যে দুইজন তৃণমূল ও দুইজন বিজেপির কর্মী বলে জানা গেছে।এ পট্টনায়কের (৪২)খুন হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার রাতে বাড়ি থেকেবের হওয়ার পরই দুষ্কৃতকারীরা তাকে আক্রমণ করে। এছাড়া রাজারহাটের বালিগড়ি অঞ্চলে মধু মণ্ডল ( ৪৬ ) পাখি একজন ব্যক্তিকে শান্ত করা হয় । একই দিন তিনটার বীরভূমের নানুর সন্তোষপুর তৃণমূলের বুথের দিকে আবির শেখকে ( ৪০ ) গলা ক টেরো ফল প্রকাশের রাতই পাওয়া হাওড়ার উদয় নারায়ণপুরে যাদব কর ( ৪৫ ) কোয়া এক সমর্থক সমর্থক পিটাটর পআনন্দে পিকনিক সময়ে করা হয়েছে।পরিবর্তনের পরে বেশ কিছু এলাকায় সহিংসতা শুরু হয়। সংবাদ পরিবেশ তৃণমূল নেত্রী মতা বন্দ্যোধ্যায় বলেন , ২০২১ তারিখে ভোটের বড় ফল পরের রাজ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়নি । তিনি আরো প্রশ্ন তোলেন , এখন মানবগোষ্ঠী , শিশু পরিষদ , তফসিলি পরিবার এবং নারী পরিষদ কোথায় ?অন্যদিকে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব জানায়, তারা রাজ্যে শান্তি চান। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, প্রশাসনের উচিত কোনো ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটলে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।গত সোমবার রাতে কলকাতার পুরসভা এলাকার লায়েলকা এলাকায় তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।পাশের বিজয়গড় এলাকায় টালিগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদের অফিসও ভাঙা হয়। বেহালায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থচট্টোপাধ্যায়ের কার্যালয়েও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে তৃণমূলেরকার্যালয়ে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। এদিকে গত মঙ্গলবার বর্ধমান শহরে সরকারি প্রকল্পের একটি ডিসপ্লে বোর্ড ভাঙার ঘটনা দেখা যায়। মন্তেশ্বরেএক তৃণমূল নেতাকে দোতলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগের ভিডিওও সামনে এসেছে। এ ছাড়া পূর্বমেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে সোমবার রাতভর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে, এমনকি শ্লীলতাহানিরঅভিযোগও করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, এসব ঘটনায় তৃণমূল-সমর্থিত দুষ্কৃতকারীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টিকরছে।কলকাতার নিউমার্কেট, নিউ টাউন, ধর্মতলা থেকে বেলেঘাটা একাধিক এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখলেরঅভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউমার্কেটে তৃণমূলের হকার ইউনিয়নের অফিসেভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা ও অশোকনগর এলাকায় তৃণমূলেরএকাধিক পার্টি অফিস, কর্মী ও কাউন্সিলরের বাড়িতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে, বারাসতের সিরাজ উদ্যানে নতুন নামের ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে পাশাপাশি শহরেরমসজিদবাড়ি রোডের তোরণের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে কিছু পুরনো ভিডিও এবং অন্য এলাকার ছবি পোস্ট করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনেরগুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বীরভূম ও পূর্ববর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের কার্যালয় দখল করে আগুন লাগানোর অভিযোগ পাওয়াগেছে। পাশাপাশি তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেসিউড়ির জয়ী বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের বাড়িতে যান এবং ক্ষমা চান। অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার এলাকায় জয়ী বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা গাড়িতে চড়ে হ্যান্ডমাইকব্যবহার করে শান্তির বার্তা দেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। বীরভূম জেলার সিউড়িতে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলের ছবি ছিঁড়ে সেখানে বিজেপির পতাকালাগিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে জয়ী বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় নিজের দলেরকর্মীদের দিয়ে বিজেপির পতাকা সরিয়ে দেন। এরপর তিনি জেলার পুলিশ সুপারকে ফোন করে দ্রুত ও কঠোরব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। দক্ষিণ পূর্ব বর্ধমানের ভাতারেও এদিন সকাল থেকে শান্তি বজায় রাখতে রাস্তায় নামেন জয়ী বিজেপি প্রার্থীসৌমেন কার্ফা। তিনি গাড়িতে চড়ে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে শান্তির বার্তা দেন এবং কোনোসমস্যা হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।অন্যদিকে সাহেবগঞ্জে তৃণমূলের কার্যালয়ে বিজেপির পতাকা ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল, পরে সৌমেন কার্ফানিজ হাতে সেগুলো খুলে দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিজেপিরঅবস্থান ছিল, তবে কোনোভাবেই এলাকায় অশান্তি হতে দেওয়া হবে না। সবাইকে একসঙ্গে থাকার আহ্বানওজানান তিনি।পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারিতে জয়ী বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, এলাকায় শান্তি বজায়রাখতে হবে এবং পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি জানান, তিনি থানার ওসিকে কঠোর পদক্ষেপের জন্যবলেছেন এবং যারা অশান্তি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুভেন্দু অধিকারীর বার্তাবিজেপির সম্ভব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাকর্মীদের শান্তি বজায় রাখা ও সংযত থাকার আহ্বানজানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগের সরকার অনেক অত্যাচার করেছে, কিন্তু কেউ আইন নিজের হাতে নিবেন নাএবং সবাইকে শান্ত থাকতে হবে। নন্দীগ্রামের কর্মী-সমর্থকদের তিনি বলেন, আপাতত দুই-তিন দিন বিজয়মিছিল না করতে, পরে পুলিশের অনুমতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারবে। তৃণমূলের কোনো কার্যালয়েও হাতনা দেওয়ার বার্তাও দেন তিনি।তিনি আরো বলেন, তার দুটি মন্ত্র ধৈর্য ও সহ্য। এই নীতিতেই তিনি আগে পরিবর্তনের সময় ছিলেন এবং এবারওআছেন। আজ বুধবার তিনি জানান, আগের সরকারের সময়কার সব মামলা আইন অনুযায়ী আবার খোলা হবেএবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নন্দীগ্রামের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেন শুভেন্দু।তিনি বলেন, মানুষ একবার বিজেপিকে সুযোগ দিয়েছে, তারা ভালো কাজ করলে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতেপারবে। শেষে তিনি জানান, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, কোন আসন তিনি রাখবেন, তা দলীয় নেতৃত্বই ঠিক করবে।https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=pfbid067BCabobmGNBzCgDa7xtaHRnm4dsy1LFJWZx7Aa8yQKJE43RLB85bXmDP35n8Bjql&id=61582932801472
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক আপনার খবর